রবিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২১

অক্টোবর স্কেচ

 (স্কেচ)

যদিও ভাল পারিনা , আঁকার চেষ্ট করি। আমার ছবিতে কোন রং নেই, তুলি নেই, স্রেফ একটা কলম হাতে। এই দিয়েই চেষ্টা করি। 








পাহাড়ি ঝরনা-৩

(ভ্রমণ)

আমাদের গাড়ির তেল শেষ হয়ে যাচ্ছিল। বানফ্ শহরের আগে একটা তেলের পাম্প পেয়েও অবহেলা করেছি। ভেবেছিলাম হাইওয়ের পাশে পরে অবশ্যই তেলের পাম্প পাবো। বানফ্ শহর পার হয়ে যাবার পরে আমরা যখন ডানে ঘুরে হাইওয়ে-১ থেকে সরে জেসপারের হাইওয়ে ধরলাম তখন থেকেই ঘন অরণ্য শুরু হয়ে হলো। একটু পরে ফোনের নেটওয়ার্ক চলে গেল। আমি একই সাথে খুশি হলাম এবং ভয় পেলাম। খুশি হলাম এইজন্য যে কেউ ফোনে বিরক্ত করবে না, আর ভয় পেলাম যদি গাড়ির তেল হঠাৎ করে শেষ হয়ে যায় তাহলে ফোন করে কারও সাহায্য চাইতে পাবো না। আমার সিএএ এর মেম্বারশিপ করা আছে, এইজন্য বছরে ১০০ ডলারের মতো গুনতে হয়। ওদের সাথে চুক্তি আছে রাস্তায় যেকোনো ধরনের বিপদ হলে ওরা এসে উদ্ধার করবে। শর্ত হলো বছরে তিনবারের বেশি ডাকতে পারবো না। তিনবারের বেশি হলেও সাহায্য করবে, তবে গলা কাটবে। কাজেই আমাকে হিসেব করে চলতে হয় যাতে বছরে তিনবারের বেশি বিপদে না পড়ি। চলতি পথে যেকোন বিপদ হলে এদের সাহায্য করার কথা। বরফে গাড়ি আটকে গেলে আগে কয়েকবার এদের সাহায্য নিয়েছি, সার্ভিস ভালো, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে উদ্ধার করে দিয়ে যায়।
কখনো ভাবিনি কানাডার কোনো হাইওয়েতে ফোনের নেটওয়ার্কে টানাটুনি পড়বে। ফোনে গুগল ম্যাপ সেট করা ছিল। নেটওয়ার্ক না থাকার ফলেও কীভাবে যেন এটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, ম্যাপ নামের অ্যাপটি ওভারস্মার্ট হয়েছে কিনা কে জানে? তবে থোরা গড়বড় হয়েছেই, মাঝেমাঝেই ইউ-টার্ন নিয়ে ভাটির দিকে চলে যেতে বলছে। ফোনে নেটওয়ার্ক নেই জেনেও নিয়ারেস্ট গ্যাস স্টেশন বলে সার্চ দিলাম। ম্যাপ উত্তরে বলল চারশো কিলোমিটার পরে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ছোট্ট এক শহরে একটি গ্যাস স্টেশন পাওয়া যাচ্ছে। বউকে বললাম তুমি বরং রাস্তার আশেপাশের সাইন গুলা লক্ষ্য করো, সামনে সার্ভিস-টাউন থাকলে সাধারণত সাইনবোর্ড দিয়ে আগেভাগেই জানিয়ে দেয়া হয়।
হাইওয়ে গিলতে গিলতে আমার গাড়ি এগিয়ে চলছে। কোনো ছোট শহরের হদিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আগে চেপে ভাবিনি এটাতো পাহাড়, এখানে হঠাৎ করে সার্ভিস শহর কোত্থেকে আসবে?
গাড়ির যেমন তেলের তেষ্টা পেয়েছে, আমার পেয়েছে কফির তেষ্টা। আমি যখন হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করি সবসময় এক হাতে স্টিয়ারিং ধরে থাকি। আরেক হাতে ধরা থাকে কফির কাপ। কফি নেই তাই দুই হাতে স্টিয়ারিং হুইল ধরে আছি। দুই হাত দিয়ে চালাতে বড় কষ্ট হচ্ছে। গাড়ি মাঝে মাঝেই ডানে বামে টাল খেতে চাচ্ছে।
আগেই বলেছি রাস্তার দুধারে গভীর সবুজ অরণ্য। সেখানে কোন প্রাণীর অস্তিত্ব নেই, একেবারে বিরান। হরিণ ভাল্লুক দূরে থাক, একটা পাখি বা ফরিঙও দেখতে পেলাম না। এরা সম্ভবত মানব সভ্যতার সাথে গোসা করেছে। যেহেতু অরণ্য, অবশ্যই লাখে লাখে প্রাণী আছে, রাগ করে মানুষকে মুখ দেখাতে চাচ্ছে না এই যা। গাছরা যেহেতু নড়তে পারে না, বাধ্যহয়ে সুবোধ বালকের মতো দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার দুই ধারে। ক্ষমতা থাকলে এরাও মানুষের কাছ থেকে দূরে পালিয়ে যেতো।
এখানে কিছুদুর পরপর রাস্তার নিচ দিয়ে পশু পারাপারের টানেল রয়েছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছে গাড়ির নিচে পিষে যাবার ভয়ে বন্য প্রাণিকূল রাস্তার একপাশের জঙ্গল থেকে আরেক পাশের জঙ্গলে যেতে চাইছে না। মেটিং সিজনে দেখা গেল নারী প্রাণীরা রাস্তার একধারে, পুরুষ প্রাণীরা রাস্তার আরেক ধারে বসে বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। বিজ্ঞানীরা অংক কষে দেখলেন, এদের যদি ওই বিশেষ কাজটি করতে না দেয়া হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে এরা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। অতএব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো রাস্তার নিচ দিয়ে টানেল তৈরি করা হবে শুধুমাত্র পশু পারাপারের জন্য। লাখ লাখ ডলার খরচ করে অনেক টানেল তৈরি করা হলো। প্রথম যে টানেলটি তৈরি করা হয়েছিল, উদ্ভোধনের দিন থেকেই খাতা-কলম নিয়ে বসা হলো প্রতিদিন কত হাজার প্রাণী পারাপার করে সেটা দেখার জন্য। বাস্তবে দেখা গেল ভুলেও কোন প্রাণী টানেলের কাছাকাছি আসছে না। যদিওবা কেউ আসছে তাদের চোখে সন্দেহের দোলা। ভাবছে টানেল এর মধ্যে না জানি কী মৃত্যুকূপ বানিয়ে রেখেছে মরার মানুষেরা। একটি প্রাণীও টানেলের ভিতর মাথা ঢুকায় নি। এভাবে এক বছর গড়িয়ে যায়, অবশেষে এক গভীর রাতে একটি ভাল্লুক অনেক দোনোমোনো করে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে টানেল পার হয়। আমার ধারণা তার যে এই সৎসাহস হয়েছিল সেটা সেই বিশেষ কাজটি করার তারণা থেকে। হয়তো তার বান্ধবী রাস্তার আরেকদিকে থাকতো। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। বানের জলের মতো পশুরা টানেল পারাপার করেছে আর বলেছে এক বছর ধরে কী ভুলটাই না করেছি।
আগেভাগে কোন সাইন না দিয়েই হঠাৎ করে যেন মাটি ফুঁড়ে একটা গ্যাস স্টেশন মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। গ্যাসস্টেশন পার করে আমি কিছুটা উজিয়ে গিয়েছিলাম, পরে ফেরত এসে প্রাণভরে গ্যাস নিলাম। একটু আগে জঙ্গলের মধ্যে প্রকৃতির ডাক সেরেছি ভেবে লজ্জা পেলাম।এখানে কতো ভালো রেস্টুরেন্ট ছিল।

পাহাড়ি ঝর্ণা - ২

(ভ্রমণ)

বিশ বছর আগে রাজু নামের এক ছেলের সাথে পরিচয় হয়েছিল। ছেলেটি ছিল গ্যাংটকের একটি হোটেলের এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার। আসামের ছেলে। আসামের এক-তৃতীয়ংশ মানুষ বাংলা বলে, রাজু তারমধ্যে পড়েছে। কাজেই আলাপ-পরিচয় হয়ে উঠল। রাত দশটার পরে সব ট্যুরিস্ট বিছানায় কুপোকাৎ। রাজু তখন আমার রুমে আসতো গল্প করতে। জানতে পারলাম ছেলেটি ছোটবেলায় আসামের জঙ্গল থেকে গ্রেট হিমালয়ের দিকে ধ্যানমগ্নের মতো তাকিয়ে থাকতো, ভাবতো একদিন ওখানে চলে যাবে। পাহাড় ওকে টানতো। আমি রাজুর সাথে আমার মিল খুঁজে পেলাম। শরৎকাল আমাদের বাড়ি থেকে হিমালয় দেখা যেত, স্পষ্ট নয়, তবে ইগনোরও করা যেত না । রাজুর মতো আমিও পাহাড় দেখে উদাসী হতাম। তবে ওর মতো পাহাড়ের কাছে গিয়ে সারাজীবনের জন্য আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছা কখনো জাগেনি। ঠিক করে রেখেছিলাম হাতে পয়সা এলে হিমালয়ে যাবো। সেটা গিয়েছি।
হিমালয় দেখেছি, আল্পস দেখেছি, রকি দেখেছি। এছাড়া খুচরা কত যে পাহাড় দেখেছি। পাহাড়কে নিয়ে আমার আদিখ্যেতা এখনও বহাল আছে। পাহাড়ের গায়ে জড়িয়ে থাকে ঘন অরণ্য। আরণ্যকে মেলারকম শব্দের উৎপত্তি হয়। কখনো পাহাড়ি ঝিঁঝিঁপোকা, কখনও ভল্লুকের শুকনো পাতা মাড়ানো, কখনও বয়ে চলা ঝর্ণার শব্দ, এবং অবশ্যই পাহাড়ি নদীর শব্দ। পাহাড়ের অন্তর্গত সৌন্দর্য পরিপূর্ণ করার জন্য একটা নদীর উপস্থিতি জরুরী হয়ে পড়ে। সেরকম একটা নদী আমাদের সাথে বেশ কিছুক্ষণ থেকেই লুকোচুরি খেলছে। কখনও হাইওয়ের একেবারে কাছে এসে পড়ে, কখনও অরণ্যকে সামনে ঠেলে দিয়ে কোথায় যেন কেটে পড়ে।
একবার কফি-ব্রেকে সালাহউদ্দিন ভাই রেগে গেলেন। বললেন পাশে এত সুন্দর একটা নদী বয়ে চলছে আর তুমি একবারও থামলে না? আমি বললাম সামনে নিশ্চয়ই থামার জায়গা পাবো।
আমরা গাড়ি চালাচ্ছি,নদী আমাদের সাথেই আছে। নদীটি টাটকা,মনে হবে এখনি ওভেন থেকে নামানো হয়েছে। ওর পানির রং ডাবের পানির মতো ঘোলাটে-সাদা।
আমার স্ত্রী একসময় বলল যদি নদীর পানি স্পর্শ করতে পারতো। এইবার আমি সিরিয়াস হলাম। বৌয়ের এই আবদার আমার একদম সামর্থ্যের মধ্যে।

পাহাড়ি ঝর্ণা -১

(ভ্রমণ)

রকি পাহাড়ে অনেক দৃষ্টিনন্দন লেক আছে। কিছু লেক বিখ্যাত, সবাই দেখতে যায়, কিছু অখ্যাত। ছবির এই লেকটি অখ্যাত, কালেভদ্রে কেউ এখানে বেড়াতে আসে। জায়গাটি অমানবিক রকম নির্জন। এর একটা ভৌতিক কারণ আছে বলে আমি মনে করি। কেন এমন মনে করছি সেটা পোস্টের শেষে থাকবে।
নির্জনতার জন্য সদ্য বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী এই লেকটাকে পছন্দ করে। তাই এর নাম হানিমুন লেক। আশেপাশে হোটেল বা কটেজ কিছুই নেই। এখানে যারা কয়েকদিনের জন্য আসে তারা সঙ্গে তাবু বা ক্যাম্পার নিয়ে আসে।
নিচের ছবিটি ২০০৯ সালে তোলা, বৌসহ এসেছিলাম। তখন আমাদের বিয়ের বয়স পাঁচ , তাই হানিমুন কোটায় পড়ি নাই। এরকম চমৎকার একটি জায়গায় দুজনে একসাথে একটি ছবিও তুলতে পারিনি। কারণ হচ্ছে - তখন সেলফি ক্যামেরা ছিল না। এই ছবিটি সনি সাইবারশট নামে এক ক্যামেরা দিয়ে তোলা। বৌ আমার ছবি তুলে দিয়েছে, আমিও তারটা তুলেছি ,ভাইস-ভারসা। আশেপাশে লোকজন থাকলে তাদেরকে রিকোয়েস্ট করতাম, কিন্তু কেউ ছিল না, যে একজন ছিল সে নিশ্চয়ই আমাদের মতো রক্ত মাংসের কেউ নয়। ভুতের বিষয়টায় পরে আসছি। স্টে-টিউনড।
২০০৯ সালে আমাদের সন্তান ছিলনা। এখন দুজন রাজকন্যা আছে। উপরের ছবিটিতে তাদেরকে দেখছেন। এই ছবিটি কয়েকদিন আগের তোলা।
দুটো ছবিতে কোন পার্থক্য দেখছেন? উপরে তাকিয়ে দেখুন, আগের ছবিতে পাহাড়ের চূড়ায় বরফ ছিল, একযুগের ব্যবধানে সেই বরফ হাপিস হয়ে গেছে। একেই বলে গ্লোবাল ওয়ার্মিং। বিষয়টা কত দ্রুত ঘটে যাচ্ছে মশাই ভাবতে পারেন?এখনো সময় আছে গাছটাছ লাগান, কম করে তেল পোড়ান। ইউরোপকে দেখে শিক্ষা নিন। ওরা যেভাবে সবুজ হচ্ছে সেটা হিংসে করার মতো।
এবার ভৌতিক ব্যাপারটায় আসি। আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি তার সামনেই একটি ঘাট আছে। সেখানে একটা খেয়া নৌকা বাঁধা থাকে। কাঠের লগ দিয়ে একটা লম্বা ডেক করা হয়েছে। সেই ডেকের মাথায় ২০০৯ সালে একটি নারীকে বসে থাকতে দেখেছিলাম। একেবারে অনড়, মনে হচ্ছিল যেন মূর্তি। সোনালি চুলের এক তরুণী। মেয়েটির সাথে কোন ছেলেবন্ধু ছিল না। সে ছিল একদম একা। বাড়ি থেকে গণ্ডগোল করে এসেছে কিনা কে জানে? যদি পানিতে ঝাপ দেয়?সেইবার মেয়েটির খুব কাছে গিয়ে গলা খাকারি দিয়েছিলাম তার মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য, যদি একটা ছবি তুলে দেয়। কিন্তু সেই নারী পিছন ফিরে তাকায়নি। একটুও নড়েনি। আমার কেমন যেন একটু গা শিওরে উঠেছিল। কী কারণে জানিনা।
এইবার বারো বছর পরে হাইওয়ে দিয়ে যাবার সময় গাছের পাতার আড়ালে ছোট একটা সাইন দেখলাম- হানিমুন লেক। একটা সরু পাহাড়ি রাস্তা জঙ্গলের মধ্যে হাড়িয়ে গেছে। আমি সাইনটি পার হয়ে গিয়ে কী মনে করে গাড়ি থামালাম। সালাহউদ্দিন ভাই আমাকে ফলো করছিলেন। উনিও ঘ্যাচ করে ব্রেক কষলেন। আমি ইউটার্ন নিয়ে সেই সরু রাস্তায় ঢুকে পড়লাম। আগেকার অনেক স্মৃতি মনে পড়ল। আমার স্ত্রী বলল, কী আশ্চর্য ব্যাপার সেই হানিমুন লেক?
সেইবার সন্ধ্যা ছিল। আজকেও তাই, চারপাশে টোয়াইলাইটের আলো। আমি গাড়ি থেকে নেমেই থমকে দাঁড়ালাম। একই যায়গায় একই ভঙ্গিমায় সেই নারীমূর্তি। সোনালি চুলের তরুণী। সালাহউদ্দিন ভাইকে বিষয়টা বলায় উনি বললেন, বিষয়টা তো ভৌতিক। চলো আমরা আর ওদিকে না যাই, কী দরকার ?
আমি আধিভৌতিক কিছুই বিশ্বাস করি না। তবুও আমার মনটা খচখচ করে উঠলো।

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮

প্রেইরির দিনরাত্রি - ওগেমা


নি রবিবার আমরা বেরিয়ে পড়ি। কোন নির্দিষ্ট গন্তব্য থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই। হয়তো হাইওয়ে থেকে অজানা কোন গ্রাভোল রোড ধরে এগিয়ে চললাম। পথের পাশে ক্যানলা অথবা সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেত দেখে গাড়ি পুলওভার করি ,ফুল ছিড়ি, প্রজাপতির নাচানাচি দেখি। মেঠো পথের এক পাশ থেকে আরেক পাশে কোন ইঁদুর দৌড় দিয়ে পার হবার সময় একটি পুরো পরিবারকে সেলফি তুলতে দেখে থমকে যায়, বোঝার চেষ্টা করে এই ঝোপ-জঙ্গলে এত দেখাদেখির কী আছে?



প্রেইরিতে বড় গাছ থাকার কথা নয়, তারপরেও আমাদের এদিকে ছোটখাটো বন আছে, সেখানকার গাছগুলো এত সরু যে, দুহাত দিয়ে তাদের কোমড় জড়িয়ে ধরা যায়। এইসব বনে হরিণ এবং অন্যান্য প্রাণিদের আস্তানা। রাস্তার পাশে এরকম ফরেস্ট পড়লে ইঞ্জিন বন্ধ করে চুপচাপ অপেক্ষা করি হরিণ দর্শনের লোভে।
আজকে অবশ্য উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা নয়। আজকের ভ্রমণ তিন মাস আগে থেকেই প্লান করা। আমাদের বাড়ি থেকে দুইশো কিলোমিটার পশ্চিমে ওগেমা নামের এক ছোট শহর আছে। আর দশটা ছোট শহরের মতই এর চেহারা, মেইন রোড নামের একমাত্র রোড, সেই রোডে একটি ডাকঘর,একটি পুরোনো রেস্তোরা এবং একটি পানির ট্যাং এইসবই থাকার কথা। কিন্ত এই শহরটা একটু আলাদা, এখানে একটি রেলস্টেশন আছে, সামারে প্রতি উইকএণ্ডে ট্যুরিস্টদের নিয়ে একটি হেরিটেজ ট্রেন ছাড়ে, সাউদার্ন প্রেইরি রেলওয়ে নামের এক কোম্পানি এই ট্রেনের মালিক।
১৮৮২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত অন্যান্য জায়গার মত প্রেইরিতেও ব্যাপকভাবে রেলের কার্যক্রম চলে। প্রত্যেকটি কমিউনিটির পাশে রেলস্টেশন তৈরি করা হয়। বড় শহরগুলোতে সেইসব রেলস্টেশনের কোন চিহ্ণ আজ আর অবশিষ্ট নেই কিন্ত ছোট শহরগুলোয় এখনো রেলস্টেশনের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এইসব ছোট শহরে স্টেশন রোড নামের একটি সড়ক এখনো আছে।
প্যাসেঞ্জার ট্রেনের পাশাপাশি শস্য পরিবহনের জন্য ছিল মালগাড়ি ।কৃষকরা ঘোড়ার গাড়িতে গমের বস্তা বোঝাই করে স্টেশনে আসত, মালগাড়িতে সেইসব বস্তা লোড দেয়া হত। এখানকার জমিতে এত এত ফসল ফলে যে বস্তায় ফসল ভরে রাখা এফিসিয়েন্ট নয়, প্রয়োজন বড় আকারের স্টোরেজ। কাজেই গ্রেইন-এলিভেটর নামের এক ধরণের সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। গ্রেইন-এলিভেটর আসলে এক মাল্টি-পারপাস কমপ্লেক্স। এর কথা পরে বিশদভাবে বলবো। পুরো প্রেইরি জুরে এইসব এলিভেটর তৈরি করা হয়েছিল।এরা কালের সাক্ষী হিসেবে এখনো দাঁড়িয়ে আছে। প্রেইরির ল্যান্ডস্কেপে দুই ধরনের স্থাপত্যই দেখা যায়, এইসব এলিভেটর এবং ওল্ড ফ্যাশনড বার্নহাউস। আজকে ট্রেনে চেপে আমাদেরকে এরকম একটা এলিভেটর দেখাতে নিয়ে যাবে।
তিনমাস আগে অনলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে দেখি এই ট্রেন ভ্রমণের অনেকগুলো ভার্সন রয়েছে। যেমন একটি ডিলের নাম ট্রেন-ডাকাতি। চলন্ত ট্রেনে যাত্রীর বেশে লুকিয়ে থাকা কোন ডাকাত হঠাৎ করে চেন টেনে দিবে। তারপর ঝোপের পিছনে লুকিয়ে থাকা অন্যান্য ডাকাত হুড়মুড় করে ট্রেনে উঠে পড়বে যাত্রীদের মালামাল লুট করার জন্য।
আরেকটি ডিল রয়েছে ছোট বাচ্চাদের জন্য। অনবোর্ড বাচ্চাদেরকে নানা ধরণের এক্টিভিটিজ করানো হবে, যেমন তাদের হাতে পায়ে টাট্টু এঁকে দেয়া, ছবিতে কালার করানো ইত্যাদি।
অ্যালকোহলিকদের জন্য একটি ডিল রাখা হয়েছে। ট্রেনে পর্যাপ্ত পরিমাণে মদ রাখা হবে, যাত্রীরা ইচ্ছামত পান করবে। জঙ্গলের মধ্যে ট্রেন থামিয়ে একটা গম্বুজের মধ্যে ডিনার করানো হবে এইসব মদপ্রেমিকদের।
আমরা ট্রেন ডাকাতির টিকেট কাটতে চাইলাম, কারণ ব্যাপারটায় রোমাঞ্চ আছে। কিন্তু ডাকাতির ট্রেন পুরো সিজনের জন্য সোল্ড-আউট হয়ে গিয়েছে। বাচ্চাদের টাট্টুওয়ালা ট্রেনেরও একই অবস্থা। কাজেই রেগুলার একটি ডিল নিতে হয়েছিল।
তিনমাস পার হয়ে আজকে ওগেমা যাবার দিন পড়েছে। কিন্তু আকাশ সহায় নয়, সকালে দুই পশলা বৃষ্টি হয়েছে, আকাশে আরো কিছু মেঘ রেডি হয়ে বসে আছে, আমরা রাস্তায় নামলেই ফটাস ফটাস করে ফাটবে।
আমাদের বাসা থেকে ওয়েবার্ন হয়ে ওগেমা যেতে হবে। কোন হাইওয়ে বদলের ব্যাপার নেই, আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যে হাইওয়ে-১৩ বয়ে গেছে সেটাই আমাদেরকে ওগেমা পর্যন্ত নিয়ে যাবে। ওয়েবার্ন দশহাজার লোকের শহর। বড় গ্রোসারি স্টোর রয়েছে। আমার বৌ প্রস্তাব করল, ওদিক দিয়েই যখন যাচ্ছি, তখন মাসের বাজারটা সেড়ে ফেলা উচিত হবে। আমি বললাম, আজকে রোববার, ফিরে আসার সময় পাঁচটা পার হয়ে যাবে, দোকান খোলা থাকবে না।
ওগেমার ট্রেন দেড়টার সময়। বৌ বলল, তাহলে আগেই ওয়েবার্নে বাজার করে যাই।
তথাস্তু, আমি বৌকে বললাম।
ওয়েবার্নে বাজার করতে একঘন্টার বেশি সময় কেটে গেল। তারপর আমাদের সবার খিদে পেল। বাচ্চারা খিদে সহ্য করতে পারবে না, একটা টিম হর্টনে ঢুকলাম তাড়াতাড়ি কিছু মুখে দিতে। কিন্ত মেয়েরা যে গতিতে খাচ্ছে হিসাব করে দেখলাম ট্রেন ফেল হবে। মেয়েরা কতদিন থেকে প্রস্তুতি নিয়ে আছে ট্রেনে চাপবে, এখন ট্রেন ফেল করলে তাদেরকে কী বলে সান্তনা দেব?
বৌকে বললাম, খাওয়া বন্ধ করতে হয়, এখনি রওয়ানা না দিলে ট্রেন ধরা যাবে না।
কিছু হবে না, বৌ উত্তর দিল।
আমি বললাম, এদেশের মানুষ এমনিতে ভালো, এরা হাসিমুখে কথা বলবে, কুশল আদান প্রদান করবে, আমরা ট্রেন মিস করলে দুঃখপ্রকাশ করবে, কিন্তু আমাদের জন্য এক মিনিটও অপেক্ষা করবে না, ট্রেন ঠিকই ছেড়ে দিবে।
কাজেই বাদবাকি খাবার প্যাকেট করে নেয়া হল। গাড়িতে বসে খাওয়া যাবে।
হাইওয়ে ১৩ দিয়ে ১২০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চললাম। একশোর রাস্তা, অনেকে একশো বিশে চালায়, আমি সর্বোচ্চ একশো দশে চালাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এর বেশি স্পিডে চালালে মনে হয় গাড়ি কাঁপছে। আজকেই ব্যতিক্রম। স্পিডিং টিকিট জুটতে পারে ভাগ্যে, কিছুই করার নেই।
ওগেমা স্টেশনে পৌঁছে দেখি হাতে পাঁচ মিনিট সময় আছে, ট্রেনের ইঞ্জিন স্টার্ট দেয়া হয়ে গেছে।
আমি বৌকে বললাম, তুমি দৌঁড়ে গিয়ে ট্রেন থামাও, আমি মেয়েদেরকে নামাচ্ছি।
টিকিট কাউন্টারের লোকজন আমাদের জন্যই অপেক্ষা করছিল। আমার স্ত্রী জানালার কাছে যেতেই তারা বলল, তোমার লাস্ট নেম কী তারেক? বৌ বলল, না , আমার হাজবেন্ডের লাস্ট নেম তারেক। ও বাচ্চাদের গাড়ি থেকে নামাচ্ছে।
ওই হল, বলে কাউন্টারের মহিলাটি আমার বৌকে চারটি টিকিট ধরিয়ে দিল।
টিকিট না দিলেও পারতো, কেননা আমাদের কাছে অনলাইন অর্ডারের কপি রয়েছে। টিকিট দেয়ার কারণ টিকিটের একটা অংশ এখানকার এক জাদুঘরে যাবার কমপ্লিমেন্টারি টিকিট, জাদুঘরটি নাকি অবশ্য দ্রষ্টব্য। পরে এর কথা বলব, সেখানে একজন ইন্টারেস্টিং মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে, নাম আরচি।
আমরা ট্রেনে চাপার সাথে সাথেই ট্রেন ছেড়ে দিল। আমাদের গন্তব্য হরাইজন নামক এক গ্রাম, সেখানেই রয়েছে গ্রেইন-এলিভেটর যার কথা আগে বলেছি।
ট্রেনের গার্ড ভদ্রলোকটি পরিপাটি করে ইউনিফর্ম পরেছে, তাকে টাইটানিক জাহাজের ক্যাপ্টেনের মত লাগছে। মাথায় যে হ্যাট পরেছে সেটা শুধুমাত্র রেলের গার্ড, সিপের ক্যাপ্টেন এবং উড়োজাহাজের পাইলটরাই পরে। একমাত্র ব্যতিক্রম নৌ বাহিনীর লোকেরা, তারা শুকনো জায়গায় বসে থাকলেও এই হ্যাট পরিধান করে।
ট্রেনে আরও একজন কর্মচারী রয়েছে, ইনি মহিলা, এঁর বয়সও ভালই হবে, ষাটের উপরে তো হবেই। বোঝা যাচ্ছে এরা সবাই ভলান্টারিলি সার্ভিস দিচ্ছে। মহিলাটির হাতে একটি মাইক, সে আমাদেরকে অত্র অঞ্চলের ইতিহাস বর্ণনা করবে।
গাড়িতে একটিমাত্র বগি। গাড়ির ইঞ্জিন ১৯৫০ সালের তৈরি। বগিটি ১৯২০ এর দশকের। ইচ্ছা করেই হয়তো সংস্কার করা হয়নি। ১৯২০ সালের একটা আবহাওয়া পাওয়া গেল।
ছোটবেলায় যেরকম ট্রেন দেখেছিলাম এই ট্রেনের জানালাগুলো সেরকমই। জানালা তুলে দিলে সড়াৎ করে নেমে যাচ্ছে। গার্ড বলল, সাবধান, জানালার কাঁচ দিয়ে হাত কেটে যেতে পারে। জানালা খোলার চেষ্টা না করাই ভাল।
ট্রেনে হিটিং নেই, মাথার ওপরে কয়েকটি ফ্যান ঘুরছে। বাইরে ১১ ডিগ্রী সে: তাপমাত্রা, এখন ফ্যানের দরকার নেই। গার্ড সাহেবকে বললাম, আমাদের মাথার উপরের ফ্যানটা বন্ধ করতে। সে বলল, ফ্যান অফ করার বন্দোবস্ত নেই। ইঞ্জিনের সাথে ডাইরেক্ট লাইন করা, ইঞ্জিন বন্ধ করলেই ফ্যান বন্ধ হবে।
এই কোম্পানি গত ছয়বছর ধরে ট্রেন সার্ভিস চালু করেছে। মহিলাটি বলল, তাদের অত টাকাপয়সা নেই, তাই পেপারে বা টিভিতে বিজ্ঞাপন দিতে পারে না। ফ্রিতে একটা ফেসবুক পেজ খুলেছে, সেখানে দশ হাজার ফলোয়ার আছে। সেই পেজের মাধ্যমেই যতটা সম্ভব এডভার্টাইজমেন্ট করা হয়। আমাকে জিজ্ঞেস করল আমি কার কাছ থেকে তাদের কথা শুনেছি।
আমি বললাম এক বন্ধুর কাছ থেকে।
বুড়ি বলল, সেই বন্ধু কার কাছ থেকে শুনেছে?
আমি বললাম, সে গতবছর এই ট্রেনে চেপেছিল। সেও কোন এক বন্ধুর কাছে শুনে ট্রেনে চেপেছে। কাজেই দেখা যাচ্ছে ওয়ার্ড অফ মাউথের মাধ্যমেই তোমাদের ভাল এড হচ্ছে। ফেসবুকের পেজ খুলে মনে হয়না কোন লাভ হয়েছে। দশ হাজার ফলোয়ারের কথা বলছ? ফেসবুকের ফলোয়ারের কাজ শুধু ফলো করা পর্যন্ত, তার বাইরে কিছুই নয়।
ভেবেছিলাম ট্রেনে অনেক বাচ্চা কাচ্চা দেখতে পাবো, কিন্তু আমরা এবং আরেকটি পরিবার ছাড়া কারও বাচ্চা নেই। অধিকাংশ লোক সদ্য রিটায়ার্ড করা, স্বামী-স্ত্রী জোড়া বেঁধে এসেছে। এই দেশের লোকেরা রিটায়ার্ড করার পরে আসল ফান শুরু করে। দর্শনীয় জায়গাগুলো ঘুরে ফিরে দেখে। অনেকে পৃথিবী ভ্রমনে বেরিয়ে পড়ে। বছর দশ-বারো ফান করার পরে এরা সিনিয়র সিটিজেনের খাতায় নাম লেখায়। তখন তাদের কাজ হয় বাড়ি থেকে গাড়ি চালিয়ে নিকটস্থ কফির দোকানে গিয়ে আড্ডা দেয়া। আড্ডা দিতে আসলেও এদের পোষাক অত্যন্ত পরিপাটি। প্যান্ট শার্ট কড়া করে আয়রন করা। বুড়িদের ঠোঁটে লাল টুকটুকে লিপিষ্টিক। মোটকথা বয়স বাড়ার সাথে এনাদের সৌখিনতা বাড়তে থাকে। অনেকে
একসময় সঙ্গী হারায়। তবুও দমে যায় না, একাই কফি শপে যায়, অন্য গ্রুপের সাথে ভিড়ে পরে। আরও বয়স বাড়লে শেষ আশ্রয়স্থল হয় বৃদ্ধাশ্রম। বয়সটাকে অনায়াসে নব্বুই, পচানব্বুই একশো পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। অপারেশন করতে করতে এদের শরীরে আর কোন জায়গা থাকে না, একসময় ডাক্তাররা আর অপারেশন করতে চায়না, তারা রোগীর পরিবারের লোকজনদের বুঝিয়ে বলে একশো বছর বয়সে আর কোন অপারেশনের ধকল শরীর সহ্য করতে পারবে না। শরীর তারপরেও টেনে টেনে চলে কিছুদিন, তারপর নিভে যায়।
আমাদের সামনে হাসিখুশি চেহারার এক বৃদ্ধা বসেছে। ঘাড় ঘুরিয়ে আমার মেয়েদের সাথে কথা বলা শুরু করল। এইদেশের বুড়োবুড়ি বাচ্চাদের খুবই পছন্দ করে। যেচে এসে কথা বলা শুরু করে। এই বৃদ্ধার কথা খুবই মিঠা। আমার মেয়েদের সাথে অল্প সময়েই ভাব জমিয়ে ফেলল। পরে কথা প্রসঙ্গে বলেছে সে রিজাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্ট-টাইমার শিক্ষকতা করে। উইন্টারের ক্লাস নেয় না, পৃথিবী ভ্রমনে বেড়িয়ে পরে। শীতের হাত থেকে বাঁচতে গরমেরদেশগুলোতে যায়। এই পর্যন্ত ৪২ টি দেশে ভ্রমণ করেছে। বুড়ি আমাকে জিজ্ঞেস করল আমরা অরিজিনালি কোথা থেকে এসেছি। বাংলাদেশের নাম বলতেই চিনতে পারল। ইদানিং বাংলাদেশের নাম এখানকার লোকজন বেশিরভাগই চেনে,কারণ যে বস্ত্র তারা পরিধান করে তার অর্ধেকই বাংলাদেশের তৈরি। অনেকেরই পৃথিবীর ম্যাপ সম্বন্ধে ধারণা কম, তাই বাংলাদেশের জিওগ্রাফিক্যাল লোকেশন টা তারা ধরতে পারে না। তখন বুঝিয়ে বলতে হয় আমাদের এক পাশে ভারত অন্যপাশে মায়ানমার,তারপরেও অনেকে চেনে না। এই বুড়ী অবশ্য বাংলাদেশ কোথায় অবস্থিত সেটা ভালো করেই জানে। সে বলল, আমি নেপাল পর্যন্ত গিয়েছি। ইচ্ছা আছে ভারত যাবার, বাংলাদেশেও যেতে পারি।
গার্ড এনাউন্স করল, ট্রেনে ড্রিংকসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একটি কুলার বক্সে বিয়ারের ক্যান ভর্তি করে রাখা হয়েছে। কিছু পেপসির ক্যানও আছে অবশ্য, আমরা পেপসি নিলাম। পেপসির দাম দুই ডলার, বিয়ারের দাম পাঁচ।
ট্রেন চলছে ১৮ মাইল গতিতে। সামনে কোন রোড ক্রসিং পড়লে তিনবার সিটি দিচ্ছে, সেটাই নাকি নিয়ম। গাড়ির ভিতরে সবাই খোশমেজাজে। ট্রেনে চেপে প্রেইরির ঘাসভূমি দেখার আলাদা মজা রয়েছে। এখানকার ভূমি বৈচিত্র্য পৃথিবীর অন্য কোন জায়গার মতো নয়। এখানকার মাটি যে পরিমাণ পানি ধরে রাখতে পারে তাতে বড় বৃক্ষ বাঁচতে পারে না, কিন্তু এই মাটিতে ঘাস এবং গুল্ম ভালো জন্মায়। আফ্রিকার সাভানার মতো। ঘাস খেয়ে যে সব প্রাণী জীবনধারণ করে বলাবাহুল্য তাদের আধিক্য এখানে বেশি যেমন গরু মহিষ হরিণ। একটু ভুল বললাম, এখন মহিষ নেই। একসময় মহিষদেরই আধিক্য ছিল। পরে ইউরোপিয়ান সেটলাররা এসে মহিষ মারা শুরু করে চামড়া ব্যবসার জন্য। তখন মোটামুটি সব মহিষ মেরে সাফ করে ফেলেছে। এইসব মহিষ দেখতে আমাদের দেশের মহিষদের মতো নয়, এদের নামটাও একটু ভিন্ন, বাইসন বলেই পরিচিত। এদের ঘাড় পাহাড়ের মত উঁচু হয়ে থাকে। কিছু কিছু রিজার্ভ এরিয়ায় এখনো এইসব বাইসন দেখতে পাওয়া যায়। এই সামারের প্রথমদিকে আমিই রাস্তার পাশে এরকম এক বাইসনকে ঘাস খেতে দেখেছি। খুব হিসাব করে এইসব বাইসন মারা হয়, এদের মাংসের দাম আকাশছোঁয়া, এক কেজির মূল্য ৫০ ডলারের উপরে।
ট্রেনের জানালা দিয়ে ধূ ধূ করা হালকা ঢেউ খেলানো ঘাস ভূমি দেখা যাচ্ছে, অনেক দূরে আকাশ দিগন্তের সাথে মিশে গেছে। আমাদের এই প্রভিন্সে ১০ লক্ষ মিঠা পানির লেক আছে ,কাজেই কিছুক্ষণ পর পর পানির দেখা মেলে। কিছুদিন আগেই এইসব জলাশয়ে পাতিহাস দেখতে পাওয়া যেত। এখন একটু একটু করে ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে, হাসগুলো কোথায় যেন চলে গেছে।
রেললাইনের একপাশে কিছু গর্ত দেখতে পেলাম। গর্তগুলো যে শিয়ালের তাতে কোন সন্দেহ নেই। আমাদের গ্রামে এরকম শিয়ালের গর্ত ছিল। সন্ধ্যাবেলা শিয়াল গর্ত থেকে বের হয়ে হুক্কা হুয়া ডাক দিত, গ্রামের কুকুরগুলো সেই ডাক শুনে একযোগ হয়ে শিয়ালের সাথে ঝগড়া করত। আমি মেয়েদেরকে বললাম, দেখ শিয়ালের গর্ত। শিয়াল শব্দটি তারা এখনো শেখেনি, তাই ট্রান্সলেট করে বলতে হল, ফক্স।
অন্যপাশের জানালার ধারে যারা বসেছিল তারা একসময় হৈ হৈ করে উঠল। কী ব্যাপার জানতে সবাই সেদিকে দৃষ্টি দিলাম। একদল উট দেখা যাচ্ছে। আমি যারপরনাই অবাক হয়ে গেলাম, মরুভূমির প্রাণী এখানে আসলো কিভাবে? শিক্ষক বুড়ি বলল, এগুলো উট নয়, এদের নাম লামা। ভেড়া এবং উটের সংমিশ্রন, শরীরটা ভেড়ার, গলা এবং মাথা উটের। সাউথ আমেরিকান প্রাণী, নর্থতেও দেখা যায়।
এরপর দুইধাপে হরিণ দেখা গেল, একবার একটি লোনার হরিণ ট্রেনের নীচেই প্রায় পড়ছিল, অল্পের জন্যে রক্ষা পেয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। একটু পরেই একসাথে চারটি হরিণ দেখা গেল, এদের গায়ের রঙ কালচে। এই রঙা হরিণ আগে দেখিনি।
পৌনে একঘন্টার মাথায় আমরা হরাইজন স্টেশনে এসে পৌঁছলাম। এখানেই গ্রেইন-এলিভেটর রয়েছে।
গাড়ি চালিয়ে অনেকবার এলিভেটরের পাশ দিয়ে গিয়েছি। কোনদিন গাড়ি থামিয়ে ভাল করে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। আজকে দেখার সৌভাগ্য হল। ট্রেনের মহিলাটি আমাদেরকে এলিভেটরের ভিতরে নিয়ে গেল। এলিভেটর আবিস্কার করার আগে কৃষকরা বস্তায় করে গম ভর্তি করে মালগাড়িতে লোড দিত সেকথা আগেই বলেছি। এলিভেটরের মূল লক্ষ্য প্রচুর পরিমাণে শস্য ওজন করা, কোয়ালিটি চেক করা, মজুদ করা এবং ট্রান্সপোর্ট করা। পাইকারদের এজেন্ট থাকতো এখানে, শস্য বুঝে পাবার পর কৃষকদের পে করা হতো। মোটকথা গ্রেইন-এলিভেটর কৃষকদের ওয়ান-স্টপ বিক্রয় বিপনী ছিল। ফসল বিক্রয়যোগ্য হবার পরে কৃষকদের একমাত্র কাজ ছিল নিকটস্ত এলিভেটরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা। এখানে স্পষ্টত প্রাইস ফিক্সিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। পাইকাররা যে মূল্য ধার্য করবে কৃষকরা সেই মূল্যেই বিক্রি করতে বাধ্য।পরে গভর্নমেন্টের এবং কো-অপারেটিভের হস্তক্ষেপের কারণে এই সমস্যা দূরীভূত হয়েছে।
এই এলিভেটরটি আশির দশকের মাঝামাঝি পরিত্যাক্ত হয়েছে। আমাদেরকে শস্য মাপার স্কেলের কাছে নিয়ে যাওয়া হল। শস্য বোঝাই ঘোড়ার গাড়ি স্কেলের উপরে দাঁড়িয়ে থাকতো, কার্টসহই ওজন নেয়া হতো, পরে গাড়ির ওজন বিয়োগ করে শস্যদানার নেট ওজন বের করা হতো। এই এলিভেটরটি পুরোপুরি কাঠের তৈরি, যখন তৈরি করা হয়েছিল তখন টিন সহজলভ্য ছিল না। গ্রেইন অতিশয় দাহ্য, সহজেই আগুন লেগে যাবার ভয় ছিল এবং আগুন লাগলে তা দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়তো। তাই এখানে ধূমপান কঠোরভাবে মানা করা ছিল। স্কেলের পিছনে বড় বড় করে লেখা আছে নো স্মোকিং। লেখাটা এখনও জ্বলজ্বল করছে, মনে হচ্ছে কয়েকদিন আগেই লিখে রাখা হয়েছে। এলিভেটরের কাঠামো এখনো মজবুত। হয়তো আরো একশো বছর টিকে থাকবে। এই ধরনের পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে বাদুর চামচিকে থাকার কথা, কিন্ত সেরকম কাউকে দেখা গেল না। তবে ইঁদুরের অস্তিত্ব বোঝা যাচ্ছে।
শস্য ওজন দেয়ার পরে বাষ্পচালিত লিফটের মাধ্যমে উপরে তোলা হত। উপরে অনেকগুলো স্টোররুম। একেক পাইকারদের জন্য একেকটা স্টোর। পরে যখন মাল অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হত তখন গ্রাভিটিকে কাজে লাগানো হতো। স্টোরের নিচে বড় ছিদ্র থাকে, সেটা খুলে দিয়ে পাইপের সাহায্যে শস্য সরাসরি ট্রেনে লোড করা হত। এই জন্যই এলিভেটরগুলো রেললাইনের সাথে অবস্থান করে। অনেকে এদেরকে স্টেশন ভেবে ভুল করে। এক অর্থে স্টেশনও বলা যায় যেহেতু ট্রেন এসে থামে।
হাইওয়ে তৈরি হবার পরে বড় বড় লরিতে করে শস্য পরিবহন শুরু হয়। তবে এখনো রেল লাইনের পাশে কিছু কার্যকরী এলিভেটর রয়েছে, সেগুলো কাঠের তৈরি নয়, টিনের তৈরি। আদিকালের কাঠের গ্রেইন-এলিভেটর এখন শুধুই হেরিটেজ, একসময় এগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
ফেরার পথে সবাই একটু উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে, কেউ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকছে না বরং নিজেদের মধ্যে গল্প গুজবে মশগুল। বাইরে কোন প্রাণী দেখা গেলে কন্ডাক্টর মহিলাটি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, আমরা এক পলক দেখেই আবার গল্লে মেতে উঠছি সহযাত্রীর সাথে।
এবার আরচির গল্পটা বলি।
ভদ্রলোকের বয়স সাতানব্বুই। বাই বর্ন র্যাঞ্চার। কাউবয় টুপি পরে আছে । পরনে পরিস্কার জিন্স।
আরচির সাথে পরিচয় হল ডিপসাউথ পাইওনিয়ার মিউজিয়ামে।
এখানকার প্রবেশমূল্য জনপ্রতি পাঁচ ডলার। ট্রেনের প্যাসেঞ্জার হবার সুবাদে আমাদের কোন টিকিট লাগলো না।
বিশাল এলাকা জুড়ে অনেকগুলো ওয়ারহাউস জাতীয় বিল্ডিং। টিনের চালার কিছু অংশ কেটে কাঁচ লাগানো হয়েছে যাতে সূর্যের আলো দিয়ে ঘরের ভিতরটা আলোকিত করা যায়।
গত দুইশো বছরে এখানকার লোকদের জীবন জীবিকায় যেসব জিনিস ব্যবহৃত হয়েছে যেমন চাষ করার ট্রাক্টর, ঘোড়ার গাড়ি, অটোমোবাইল, গম মাড়াই করার যন্ত্র ইত্যাদির বিশাল এক কালেকশন। মিউজিয়ামের ভিতর অনেকগুলো বাড়ি । একটা উনিশ শতকের শেষের দিকের বাড়িতে ঢুকে পড়লাম। বেডরুমে একটা ১৪ ইঞ্চি টিভি, একেবারে প্রথম আমলের, নব ঘুরিয়ে চ্যানেল চেঞ্জ করতে হয়
শোবার ঘর, বসার ঘর, কিচেন সবগুলো ঘর পরিপাটি করে সেই আমলের জিনিস দিয়ে সাজানো। সোবার ঘরের বিছানা পরিপাটি করে সাজানো। আমি বিছানায় বসে একটু রেস্ট নিয়ে নিলাম। বিছানা এখনকার দিনের মত আরামদায়ক নয়, স্প্রিংয়ের তোষক। শোবার ঘরের এক কোণে একটা সিঙ্গার সেলাই মেশিন। এই বাড়ির গৃহিণী মনে হয় সেলাই করতো। ঠিক এই ধরণের একটা সিঙ্গার সেলাই মেশিন ছিল আমাদের বাড়িতে, আম্মা সেই মেশিন দিয়ে আমাদের জামাকাপড় তৈরি করতো।
বাড়িতে ব্যবহৃত জিনিস গুলো সবই পরিচিত, ছোটবেলায় বাংলাদেশের ঘরবাড়িতে এইসব জিনিস দেখতাম। একটার কথা বলতেই হয়, শো-কেস। আমাদের দেশে মধ্যবিত্তদের বাড়িতে একটা শো-কেস থাকবেই, সেইসব শোকেসে যত্ন করে চিনামাটির প্লেট, হাফ-প্লেট, কাপ পিরিচ ইত্যাদি সাজানো থাকে। বাড়ির বাবা হয়ত যুবক বয়সে কোন মেডেল পেয়েছে, সেটাও শো-কেসে সাজানো থাকতো। এই বাড়িতেও একটা শো-কেস দেখলাম, ভিতরে চীনা মাটির জিনিসে ভর্তি। রান্নাঘরে অনেক টিনের বাসন-কোসন, ঠিক একই রকম বাসনপত্র আমরাও ব্যবহার করেছিলাম। কাসা পরবর্তি যুগ হল টিনের যুগ। টিনের থালায় সাদা রঙ, বর্ডারটা মাছির গায়ের মত নীল। এরপরে আসে মেলামাইন যুগ। যাইহোক এই বাড়ির জিনিসপত্র দেখে মনে হচ্ছে আগেকার দিনে সারা পৃথিবী জুড়ে একই রকম ব্যবহার সামগ্রী ছিল।অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে সাম্প্রতিক কালে।
কত কত ধরনের বাড়ি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, সবগুলোতে ঢোকার সময় পেলাম না। একটা নাপিতের ঘরে ঢুকলাম। উঁচু নাপিতচেয়ার, দাড়ি কাটার ক্ষুর, আয়না সবই আমাদের দেশের নাপিতের দোকানের মতোই। এই জাদুঘর দেখে বেশ মজা পাচ্ছি। যারা প্রেইরি অঞ্চলে বসবাস করেন, তাদের অবশ্যই এই জাদুঘরটি দর্শন করা উচিত। বিশেষ করে যারা রিজাইনাতে থাকেন তাদের অবশ্যই এখানে আসা উচিত, রিজাইনা থেকে ওগেমার দূরত্ব একশো কিলোমিটারের একটু বেশি। জাদুঘরটি ওয়ার্থ-ভিজিটিং। শুধু মিউজিয়ামটি ঘুরে দেখার জন্য তিনঘন্টা সময় নিয়ে আসবেন।
এত বড় জাদুঘরে মাত্র একজন কর্মচারী, যে বৃদ্ধটি ফ্রন্টে বসে টিকিট বিক্রি করছিল সে-ই কিউরেটর। সকাল বেলায় এসে সবগুলো ঘরের তালা খুলে দেয়। সব ঘরের তালা খুলতে তার এক ঘন্টা সময় লেগে যায়, বিকালেও একই অবস্থা।
আজকে হঠাৎ করে ঠান্ডা পড়ায় সবগুলো বাড়ি ঘুরে দেখতে কষ্ট হচ্ছে। বাড়িগুলোতে বিদ্যুতের সরবরাহ নেই, অযথা খরচ, কয়জনই বা এই জাদুঘরে বেড়াতে আসে? আমি সময় নিয়ে সবকিছু দেখতে চাই, কিন্তু আমার স্ত্রী একেবারে উল্টো, সে তাড়াহুড়া করে দেখে আরেক বাড়িতে ঢুকে পড়ে। কাজেই একসময় সে হারিয়ে গেল। অসুবিধা নেই, হারিয়ে যাবে কোথায়? আমি একমনে এন্টিক দেখছি, এমন সময় দূর থেকে বৌয়ের উচ্চ কন্ঠ শোনা গেল, সে বলল, তুমি কোথায়?
এই যে আমি এখানে, বলে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পরলাম।
স্ত্রী কাছে এসে বলল, একটা বাড়ির সন্ধান পেয়েছি, ভেতরটা একেবারে টোস্টি ওয়ার্ম, দেখতে চাও ?
আমার হাত ঠাণ্ডায় জমে গেছে, আমি বললাম এক্ষুনি।
সেই বাড়িতে ঢুকেই আরচির সাথে আমার পরিচয় হলো। এই বাড়িটি আসলে একটা আর্ট গ্যালারি। পুরাতন বাড়ি নয়, নতুন। বিদ্যুৎ রয়েছে, হাই হিটিং দিয়ে রাখা হয়েছে। আরচি আমাকের স্বাগত জানিয়ে বলল, দরজাটা ভিড়িয়ে দাও, ঠান্ডা আসবে। আমার স্ত্রী একটু আগে এসে তার সাথে কথাবার্তা বলে গেছে, কিন্তু তার কিছুই মনে নেই, সাতানব্বুই বছর বয়সে মনে থাকবার কথাও নয়। আমার স্ত্রীকে সে আবার মাথা নুইয়ে স্বাগত জানালো।
আরচির সাথে কথাবার্তা বলে এবং গ্যালারির পেইন্টিংস দেখে যা বুঝলাম তা হল এই-
আর্চির মা এক ঘোড় সওয়ারী। মাত্র ষোল বছর বয়সে প্রিয় ঘোড়ায় চেপে একাই আমেরিকার কোন এক জায়গা থেকে উত্তরে যাত্রা করে, প্রেইরিতে ঘর বাধঁবে। ওগেমায় এসে মন স্থির হয়। একটি ষোড়শী মেয়ে কত প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই মনে হয় এখানে ঘর বাঁধতে পেরেছিল। সেই ইতিহাসটা আরচির মুখ থেকেই শুনতে চাইছিলাম, কিন্তু বয়সের জন্য একসাথে অনেকক্ষণ কথা বলা তার পক্ষে সম্ভব নয়। কথা বলতে বলতে খেই হারিয়ে ফেলে। ছোট বাক্য বিনিময়ে সে ঠিক আছে। আমার মেয়েদের সাথে তার আলাপটা ভাল জমছে।
আরচির মা প্রেইরির সৌন্দর্য্যে বিমোহিত হয়েছিল, পেইন্টিিংস তার শখ, সে চেয়েছিল আজীবন প্রেইরির ছবি আঁকবে। এঁকেছেও প্রচুর। সেগুলো বেহাত হয়ে কোথায় কোথায় চলে গেছে। তার ছেলে আরচি এখন সেইসব ছবি উদ্ধার করে চলেছে। আরচি সম্পূর্ণ নিজের টাকায় এই আর্ট গ্যালারী তৈরী করেছে। যাদের কাছে আরচির মায়ের পেইন্টিংস ছিল, আরচির প্রজেক্টের কয়া শুনে তারা সেইসব পেইন্টিংস ফেরত পাঠাচ্ছে। আমরা শখানেক পেইন্টিংস দেখলাম। প্রত্যেকটা প্রফেশনাল আঁকিয়ের আঁকা পেইন্টিংস মনে হল। আরচি প্রত্যেকটা ছবির সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে, কোন পেইন্টিং কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেটা বর্ণনা করছে।
লোকজন শনি-রবিবার এই মিউজিয়াম দেখতে আসে। কারণ এই দুইদিনেই ট্রেনের প্রোগাম থাকে। আরচি প্রতি উইকএন্ডে নয়টা পাঁচটা অফিক করার মত আর্ট-গ্যালারির তত্ত্বাবধায়ন করে। এছাড়াও সপ্তাহের অন্য দিনে মিউজিয়ামে এসে কেউ যদি আরচির মায়ের আর্ট-গ্যালারি দেখতে চায় তাহলে ফোন করা মাত্র আরচি গাড়ি চালিয়ে এখানে চলে আসে। সে শহরে থাকে না,এখান থেকে বিশ মাইল দূরে একটি খামারবাড়িতে থাকে।
আমি অবাক হয়ে বললাম, তুমি এই বয়সে গাড়ি চালাও?
সে বলল, ইয়েস। গ্যালারির পাশে একটি পন্টয়াক গাড়ি পার্ক করা, সে বলল সেটিই তার গাড়ি।
এই বয়সে গাড়ি চালানোটা বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে। ইন্সুরেন্স কোম্পানি কোন হিসাবে তার লাইসেন্স বজায় রেখেছে মাথায় ঢুকলো না। একদিন বড় এক্সিডেন্ট হয়ে যাবে তো।
আরচির বাবা এই এলাকার মানুষ। আরচির মা তাকে বিয়ে করার পরে যে র্যাঞ্চটি তৈরি করেছিল, আরচিও সেটার দেখাশুনা করেই জীবন পার করে দেয়। এখন দেখছে আরচির এক ছেলে। তাদের সাথেই আরচি থাকে। আরচির বৌ গত হয়েছেন এক যুগের বেশি। তার কাউবয় টুপির ভিতরে তার বৌয়ের একটা ছবি আঠা দিয়ে লাগানো আছে। টুপি খুলে আরচি আমাদেরকে বৌয়ের ছবি দেখালো। বউয়ের কথা বলার সময় তার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
আমার মেয়েরা আরচিকে বিভিন্ন প্রশ্ন করছিল।
আরচিও সিরিয়াসলি আমার মেয়েদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিল। আমার মেয়েদের বেশিরভাগ প্রশ্ন আরচির মাকে ঘিরে। সে কিভাবে ঘোড়া চালাতো, কিভাবে ছবি আঁকতো, কিভাবে রান্না করত- এইসব বিষয়ে প্রশ্ন। আরচি গর্ব করে মায়ের বিষয়ে কথা বলছে। মাকে বড় ভালবাসে সে।

সোমবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৩

সেবা মূলক অর্থনীতি এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ

অবাক হয়ে দেখি , কিভাবে আমরা কৃষি এবং পন্য ভিত্তিক অর্থনীতি থেকে সেবামূলক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হচ্ছি , আজ দেশের অর্ধেকের বেশি জিডিপি contribution এই সেবমূলক সেক্টর থেকে , শুধু বাংলাদেশ নয়, উন্নত এবং উন্নয়নশীল সব দেশই শিফট করছে এই সেবামূলক অর্থনীতিতে , কোথায় যেন পড়লাম , IBM এর মত বড় কমপনির ভ্যালু এখন প্রোডাক্ট (যেমন hardware ) থেকে নয় বরং সার্ভিস থেকে এবং non tangible আইটেম যেমন সফ্টওয়্যার থেকে । আজ ইউএস এ এর অর্থনীতি প্রায় ভিত্তিবদ্ধ এই সার্ভিস related অর্থনীতিতে । একদিন ভাবলাম খুব একটা সহজ পরীক্ষা করব , তা হল , সারাদিন আমি যা খরচ করি তার কত অংশ পন্ন কিনতে এবং কত অংশ সেবা কিনতে খরচ করি , শেষে দেখলাম , শুধু খাবার এর বাজার ছাড়া সব ই গেছে সেবা কিনতে , যেমন মোবাইল এর বিল , সিএনজি ভাড়া , সিনেমার টিকেট , টিভি দেখলাম কাজেই dish এর বিল এর একটা অংশ, গ্রামে বসে ইন্টারনেট বাবহার করব , কাজেই ইউএসবি স্টিক এর খরচ , মোটকথা সেবা কিনতেই খরচ বেশি । আশি এবং নব্বই এর দশকে , চারপাশে দেখতাম বেকরত্তের অভিশাপ , ঢাকা বিশশবিদ্যালয় থেকে পাস করে কত জনকে বেকার বসে থাকতে দেখেছি , আর আজ? গ্রামের ছোট কলেজ অথবা অক্ষাত প্রাইভেট বিশশবিদ্যালয় থেকে পাস করেও চাকরি করছে আমাদের যুবকরা , এর সবই সম্বব হয়েছে এই সেবা মূলক সেক্টর এর মধ্যমে । আমাদের দেশে সেবামূলক সেক্টর মানেই wholesale, ট্রেডিং , transportation , কম্যুনিকেশন যেমন বিশাল মোবাইল নেটওয়ার্ক , সরকারী সোসাল সার্ভিস যেমন শিক্ষা , স্বাস্থ্য সেবা , পাবলিক administration এবং defense এসবকেই বুঝায় । হালে ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস যেমন ব্যাঙ্ক, ইনসিওরেন্স ইত্তাদি যুক্ত হয়েছে , অম্লীগ যখন আগেরবার ক্ষমতায় ছিল , তখন প্রচুর প্রাইভেট ব্যাঙ্ক হয়েছে দেশে। আর একটা উল্লকেকযজ্ঞ সার্ভিস এসেছে দেশে , তা হল real estate , মানুষের তুলনায় জমি কম এবং , বেশীরভাগ চাকুরী ঢাকা কেন্দ্রীক হওয়ায় অ্যাপার্টমেন্ট কেন্দ্রিক real estate বাবসা যুক্ত হয়েছে অর্থনীতিতে । বাবসা ভিত্তিক সেবা যেমন অ্যাকাউন্টিং এবং বিজনেস administration এর কদর বেড়েছে , university গুলোতে বিবিএ এবং এমবিএ এর ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে। broadcasting এবং add বাবসা ভালই চলছে দেশে , অনেক টিভি চ্যানেল হয়েছে দেশে (আবার দুইটি বন্ধ হয়েছে রিসেন্টলি) । আরো পোটৈনশিয়াল সেবার কথা যদি বলি, হতে পারে শিক্ষা এবং tourism, শুধু নেপাল থেকে স্টুডেন্ট আসলেই হবে না , সার্ক এর সব দেশ থেকেই আস্তে হবে। অন্যদিকে , এমন বিশাল সম্মুদ্র সৈকত আমাদের , কক্স বাজারে international এয়ারপোর্ট করে কত ডলার ওয়ালা দেড়কে আকৃষ্ট করতে পারি। সবাই জানে , ভারত এর বাঙ্গালোর পৃথিবীর আইটি ক্যাপিটাল , শুধু তাই নয়, তাদের call সেন্টার এবং উন্নত দেশ এ back অফিস সাপোর্ট আনছে প্রচুর সবুজ মুদ্রা, আরো আছে software ডেভেলপমেন্ট , এর সবই আমরা করতে পারতাম , কিন্তু হল না। কয়েক বছর আগে এক প্রভাবশালি যুবক ডিজিটাল বাংলাদেশ এর সপ্ন দেখালেন , আমি ভাবলাম অনেক কিছুই হবে , ইন্টারনেট এর infrastructure আরো মজবুত হবে , submarine cable এর আরো লান্ডিং পয়েন্ট বসবে , সফ্টওয়্যার রপ্তানী হবে , call সেন্টার এর বাবসা আসবে , আরো কত কিছু , কিন্তু হল না কিছুই।

মুম্বাই এবং দুই মোকান

রাতের ট্রেন ছুটে চলছে , আমি নির্ঘুম এসি স্লীপার কোচ এর উপরের বাংকারে, আমার আশেপাশে সবাই নাক ডেকে ঘুমচ্ছে , অদূরে কেউ একজন দশ মিনিট পর পর বিশেষ শব্দ করছে , আর আমি নাক চেপে ধরছি। ভারতের এই ট্রেন সিষ্টেম এর সাথে আমি পরিচিত নই , একগাদা অপরিচিত লোককে আসে পাশে রেখে ঘুম আসার প্রশ্নই উঠে না , আমি মাঝে মাঝে বউকে ফোন করছি , ফিশ ফিশ করে কথা বলতে হচ্ছে , পাছে অন্যদের ঘুম ভেঙে যায় । একটু পরপর মনিবাগ চেক করছি , কেউ হাতিয়ে নিল নাকি ? নিচে রাখা জুতো জোড়ার জন্যও চিন্তা হচ্ছে । আমার গন্তব্য মুম্বাই সেন্ট্রাল ।


অফিস এর একটা কাজে মুম্বাই আসলাম , আহ, কত দিনের শখ এই শহর দেকবো, শেষে কাজের ছুতোয় আশা হল , কাজ শেষ হলে আজই ফিরে যাব। ট্রেন থমল কাক ডাকআ ভরে , ছয়টার দিকে , আমার অফিস খুলবে নয়টায় , আমার অফিস মানে আমি যে অফিস এ একটা কাজে এসেছি , কিন্তু স্টেশন এর কাছে অপেক্ষা করার মত কোনও রেস্টুরেন্ট খুজে পেলাম না , শেষে ট্যাক্সি করে চললাম গন্তব্যে , ইন্ডিয়ান বুল্স ফাইনান্সিয়াল সেন্টার এ। সকাল বলে রাস্তা ঘাট ফাকা , অন্য শহরের মত ছোট ছোট মোটর বাইকের অতো দৌড়ত্ত নেই। তার মধ্যে আজ রাখী বন্দন, বেশীরভাগ অফিস বন্ধ, তাই পনের মিনিটেই চলে আসলাম , কিন্তু যা ভেবেছিলাম তাই, ভিতরে নয়টার আগে যাওয়া যাবে না। কী আর করা , আবার খুজতে লাগলাম রেস্টুরেন্ট , আর এদিকে খিদেও খুব লেগেছে। শুনেছিলাম ট্রেনে খাওয়ার বাবস্থা আছে , কিন্তু সারা রাত কেউ তো একটা টু করল না ? যাই হক ইন্ডিয়ান বুল্স এর কাছে কোনও রেস্টুরেন্ট খুজে পেলাম না , এলাকাটা কমার্সিয়াল সেন্টার হলেও আসে পাশে সব বস্তি এলাকা , এমনকি বসর মত কোনও বেঞ্চ খুজে পেলাম না । আমি হাটতে লাগলাম , এবং একসময় একটা মোড়ে এসে পড়লাম যেখানে একটা ভ্রাম্যমান নাস্তার দোকান , আমি ছোট বেলা থেকেই রাস্তার পাশের দোকানে চা বিস্কুট , ছোলা মুড়ি খেয়ে অভ্বোষ্ট, কিন্তু ইণ্ডিয়াতে রুচি হয়না , বড় বেশি নোংরা যে । কিন্তু পেটে যে সুচর ডং, উত্সাহ নিয়ে গেলাম, নাস্তার অর্ডার করলাম , লাল রঙের হালুয়া এবং আলু পোহা মিক্স্ড , একদম গরম , বেশ সাদ লাগলো , বিশেষ করে হালুয়া টা অসাধারণ , এখনো মুখে লেগে আছে । মুম্বাই পাও ভাজির জন্য বিক্ষাত, কিন্তু এটা বোধয় ভরে পাওয়া যায় না। নাস্তার পড়ে খেলাম এককাপ গরম চা প্লাস্টিকের কাপে । ইণ্ডিয়াতে একটা জিনিস অবাক হবার মত , তা হল আগুন গরম চা । তবে পরিমাণে প্রায় ঔষধের ডোজের মত ।

এরপর এদিক ওদিক অনেক ঘোরাঘুরি করে শেষ পর্যন্ত অফিস এর ভিতর ঢুকতে পারলাম নয়টায় , এবং এক ঘন্টার মধ্যে কাজ হয়ে গেল, আমার রিটার্ন টিকিট কাটা দুপুরের ট্রেনে , এখনো হাতে বেশ কিছুটা সময় আছে , কিছু যায়গা ঘোরা যায় । ট্যাক্সি নিলাম , বললাম চল হাজী আলীর মজার , আমার বউ বারবার করে বলে দিয়েছে ওখানে যেতে , তার কী যেন একটা মানত আছে । আগেই বলেছি আজ রাখী বন্ধন , তাই ট্রাফিক নেই বললেই , দ্রুত পৌছে গেলাম । জয়গাটা অসাধারণ লাগলো , আর এই প্রথম ভাল করে চোখ মেললাম মুম্বাই এর হাই রাইজ বিল্ডিং , এক পাশে সমুদ্দর , আর এক পাশে ঝক ঝকে এক শহর , আমি তো ম্যান হাটন এর সাথে মিল ঘুজে পেলাম , বরং তার চেয়ে ভাল লাগলো , কী অসাধারণ শোভা, আর হাজী সাহেবের মজার বসছে সমুদ্রের উপরে , এখন জওয়ার বলে মজার যাওয়ার রাস্তা বন্ধ , দূর থেকেই ডেকতে হল , মাজারে অনেক মানুষ আটকে গেছে , দুপুরে যখন পানি নামবে তখন তারা আস্তে পারবে ডাঙ্গায়। কী আর করা , আমি অবশ্সই এখানে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করব না , ঠিক করলাম বউকে মিতথা বলব যে মজার জেয়ারত করেছি । এত সুন্দর রাস্তা, হাটতে শুরু করলাম , একসময় মনে হল , জয়গাটা খুব চেনা , কী বেপার? আমি তো কোনও দিন মুম্বাই আসিনি , তবে কী জট্টিসর হয়ে আগের জন্মে এখানে ছিলাম ? একটু পরেই মনে পড়ল , এখানে গভীর এক রাতে দাড়িয়ে ছিল করিনা কাপুরের প্রেতত্তা , তাই দেখে এক গাড়ি মারততক অ্যাক্সিডেন্ট করে পড়ে যায় সম্মুদ্রে , ছবির নাম তালাশ ।

হাতে আর বেশি সময় নাই , বহু দিনের শখ, অমিতাভ বচ্চনের বাড়ি ডেকতে যাব , একটা ট্যাক্সি ঠিক করলাম , সে চেনে, যুহু বীচ এ , বললাম চলিয়ে জি , প্রায় অনেক সময়ের পড়ে আমার ট্যাক্সি থমল একটা বাড়ির সামনে , নাম জলসা , এখানেই থাকতেন অমিতাভ , বলল ট্যাক্সি ড্রাইভার । এখন থাকেন ছেলে আর ছেলের বউ , আমার কাছে খুব ইম্প্রেসিভ মনে হল না , বেশ পুরোনো আমলের বাড়ি , চোখে পড়ার মত যা টা হল বাসার সামনে পাচ ছয়জন সিকিউরিটি গার্ড , বসে বাদাম ছিলাচ্ছে ,আর বাসার নিচ তলায় একটা সারির সো রুম মনে হল , সেখানে প্রমাণ সাইজের এক অইশ্হরিয়ার ছবি , আমি একটু হতাশ হলাম , তবে কী অমিতাভের ছেলের বউ এখন সারির দোকান খুলেছে ? তাও আবার নিজ বাসায় ?

যাই হক, এবার আমার ড্রাইভার কে বললাম , বিগ বি কোন বাসায় থাকে? আমাকে সেখানে নিয়ে যাও ভাই। ড্রাইভার বলল , ওকে বস, তারপর পাচ মিনিট পড়ে গাড়ি থমল যে বাসার সামনে তার নাম প্রচেষ্টা , এখনি নাকি থাকেন অমিতাভ । চার পাচ মিনিট থাকলাম যদি বস বের হন , কিন্তু না । অবশেষে গেলাম কাছেই, যুহু বীচ এ , আজ হওয়া বেশি বলে , সমুদ্রে একটা আলগা পাওয়ার এসেছে , বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে সামনে , ভালই লাগলো , আমার মোবাইল সেট দশ বছর আগের বলে ছবি তোলার অপশন নেই , তাই কোনও ছবি তুললাম না । বেশ ভালই লাগলো , তবে বীচ টা আরও সুন্দর করা যেত , বেশ যেন অপরিকল্পিত , সাগরের ধরেই সারি বাধা বাসা বাড়ি , হোটেল বা মোটেল হলেও ভাল লাগতো।

এরপর ট্যাক্সি কে কিং অফ বলীউড এর বাসায় যেতে বললাম , ড্রাইভার আবার অনেক পথ ঘুরে নিয়ে এল সেই হাজী আলীর মাজারের কাছে , অমিত অবাক , বললাম আরে বেটা , এটাইত আগে দেখাবি , তাহলে কিছু সময় সেভ করে মুভি পল্লীটা দেখে আস্তে পারলাম , ড্রাইভার আমার ভাঙ্গা হিন্দী কী বুজল জানিনা , সে বলল বরাবর । সরুক জী মোকান ভালই করেছে , একেবারে সামনেই সম্মুদর , বেশ ভাল লাগলো , কিন্তু হাতে সময় একদম নেই , ট্রেন ফেল করলে আর রিজার্ভেশন পাওয়া যাবে না , ইণ্ডিয়াতে ট্রেনের টিকিট কটকে রিজার্ভেশন বলে , এটা খুব একটা বড় প্রক্রিয়া , শুরু করলে শেষ হতে কয়েকদিন লাগে, আর শর্ট কাট উপায় হল দালাল ধরা , অথবা স্ট্যান্ডিং টিকিট কিনে , ট্রেনে কুলি ধরা , কুলিরা এখানে বস, তারা কিছু একটা করে দিবেই , কিন্তু অত হেপা করে লাভ কী? তাই ছুটলম স্টেশন এ , বাদশার সাথে আর দেখা করা হল না ।

শনিবার, জুন ০৮, ২০১৩

মানুষ

   আমার মনে প্রশ্ন , পৃথিবীতে মানুষ কেন একমাত্র প্রাণী যে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি আলাদা এবং উন্নত ? কোনও জীব বিজ্ঞানীকে এই প্রশ্নটা করতে হবে , তবে উত্তর না পাওয়ার সম্বোবনা বেশি , চরদিকে যে এত প্রানের ছড়াছড়ি , তাতে তো মানুষের সাথে কার  মিল নেই ? অথচ অন্য প্রজাতিতে রয়েছে যেমন গাধা আর ঘোড়া, তবে আমারে পয়েন্ট এখানে ভিন্ন | আমি মিন করছি বুদ্ধি , বুদ্ধিতে গবাদি পশুরা তো প্রায় সব একই মনে হয় , কেউ কার চেয়ে খুব বেশি বুদ্ধিমান বলে তো মনে হয় না | কুকুর তো বুদ্ধিমান না , প্রভুভক্ত , সে তো অন্য বেপার , ডলফিন শুনেছি বুদ্ধিমান , তবে কোথায় ? মানুষের কাছাকাছি ? দূর ?
         কেন মিলিয়ন্স প্রাণীর মধ্যে মানুষ এত আলাদা ? একটু খটকা  লাগে না ? এমন তো হতে পারতো , প্রায় কাছাকাছি শ্রেণীর  কমপক্ষে দুই তিনটা প্রজাতি থাকতো , তারা পৃথিবী টাকে তাদের মত ভাগ করে নিত , ভয়ানক শত্রু তা থাকতো এদের মধ্যে , মাঝে মাঝেই যুদ্ধ হতো , কিন্তু তা তো নয় , নাকি অনেক অনেক আগেই মানুষ তার প্রতিপক্ষ কে একতম শেষ করে দিয়েছে? এটা হতে পারে |
   আর কী হতে পারে ? বিরাট রহসস , rational আর কী হতে পারে? প্রোব্লেম হচ্ছে ল আর ইকোয়েশন দিয়ে এটার  অকট্টভাবে এক্সপ্লেন করা যাচ্ছে না | জীব বিজ্ঞান তো অন্য ধরনের বিজ্ঞান , সেখানে অংক নেই |
   বিবর্তন ?  হাত আছে বলে ? হাতের বাবহার ? সাথে সাথে ব্রেন এর exponential গ্রোথ ? তবে অন্যদের কেন হল না ? কেন শুধু একটা প্রজাতি ?
    বিবিসি তে ডকুমেন্টারী খুজতে হবে , অথবা পড়তে হবে বই , কিন্তু সময় কই? আগে ভবতাম বই এর কথা মানে  দৈব বাণী , এখন তো বুঝি তা না ,  অনেক ফাকি রয়েছে |
    সারা ছাত্র জীবনে , বাযোলজি কে অবহেলা করেছি , ইন্টার এ ছিল ফোর্থ সাবজেক্ট , মনে করতাম পদার্থ  আর রসায়ন পড়ে  সব উদ্ধার হয়ে যাবে , কিনুত না |
    ম্যাক্স প্লাংক যখন ঊনিভার্সিটিতে ভর্তি হয় , তার শিক্ষক বলেছিল , কেন আসলে খামোকা এই পদার্থ বিজ্ঞান পড়তে ? এই শাখায় সব আবিষ্কার হয়ে গেছে অলরেডি | শুধু ব্লাক  বডি radiation এর  explanation টা   বাকি আছে , প্লাংক উত্তর দেয় , আবিষ্কার আর কী করব ? আমি শুধু প্রকীতির নিয়ম গুলো বুঝতে চাই| যাই হক পরে  অনেক কিছুই আসে নতুন নলেজ হিসাবে, আগের  অনেক কিছুই একদম ভুল প্রমানিত হয় , কিন্তু তবু তো ছকে বাধা , এনার্জি এবং ফোর্স এর ক্রিয়া বিক্রিয়া | কিন্তু জীব বিজ্ঞান ? ব্রেন এ বিলীয়ন্স অফ নিউরন এর কী আজব নেটওয়ার্ক , এর dynamics কী?
 এই জীবনে কী জানতে পারব এই রহস্স ? মনে হয় না ?

রবিবার, মে ১২, ২০১৩

A day in Pushkar


Category: Travel 

Pushkar is an old city located at 14 km North-West from city of Ajmer, Rajasthan.
The beauty of Pushkar is its smallness and its great geography, and on top of that, it holds hundreds of Hindu temples which make it a holy place for them. These temples are years-aged and draw hundreds of pilgrim everyday from across the country. In recent days, the presence of foreign travelers has increased. I believe one of the reasons for this is the camel safari.
        If you visit Ajmer and have some spare time in your hands, it is worth a try to visit Pushkar. Even if theoretically Pushkar is 14 km away from the city center of Ajmer, there is a shortcut road that goes over the Aravalli mountain range and makes the total trip to 6 km. If you take this road, and when you are at the peak, you will have an awesome birds-eye-view of both of the cities, Ajmer and Pushkar.  
     I and my wife recently travelled to Ajmer. When we were done in Ajmer Sharif it was early hours of the day. As we were travelling intermittently, we did not have a fixed plan about where to go next. To do some research, I turned on my magic device WikiReader that allows me to browse all the articles in Wikipedia offline. There I came to know about this wonder city.  By the time we got into Pushkar it was about 11 am. At the entrance of the city we were charged 30 rupees tax to enter into the city. This is very common in India, when you get around you could be stopped anytime and be charged money. Although you are given a receipt, sometimes it is not even written in Hindi, so you will never know what you have paid for. This time though, our driver said to us that the city government takes this money from visitors to keep the city clean and tidy. It is true that Pushkar seemed to be a little cleaned than other typical Indian cities.
     When we hit the city, our Chevrolet SUV was being surrounded by a group of young men who were riding motor bikes. In many ways, they were trying to draw our attention. From our previous experience in Fatehpur Sikri, we knew that how irritating and arguing they could be. They claim as local guide and keep you bothering even if you said straight no to them. So we did not stop and continued driving, but they escorted us until we reached the city center. We got left off once we had told them that we are Muslims and not interested in visiting temples. We were there only for the Camel Safari.
      Now that we got into the city, we needed a plan. My intent was to have a camel safari and if time permitted visit some must seeing places. When our driver was feeling up diesel, I went ahead and asked the pump owner about the best hotel in town. From my experience, I knew that a good hotel can provide us more information about the expedition. In 20 minutes, we ended up in a hotel called Master Paradise. The manager appeared to be very helpful. He had provided us all the needed information for the Safari, but he advised it was not a good idea to go out until the afternoon when the heat would start subsiding. So it came down to the fact that we would have to stay overnight in Pushkar as the Safari would end at about 8:30 pm. So we checked in on that very hotel and asked the manager to have everything arranged for the Safari. The hotel manager called in a man named Dogba and let me to talk with him. Initially he charged 1500 rupees for two camels for a 4 hour Safari, but after a little bargaining, he came down to 1200. It had been fixed that he would pick us up right in front of the hotel at 4:00 pm. We were advised to take enough liquids with us. In Rajasthan, in this hot weather, just water does not do the trick. The best option is to squeeze some fresh lemon into the water bottle and add some salt in it. This way it would rehydrate the water you are losing continually.
  We got couple of hours before we set off our camel ride. The hotel got an excellent swimming pool. We spent a good one hour in there. We lucked out that there was no one in the pool area at that time. It might be because of the off-season. So we relaxed and felt the atmosphere. Across one side of the pool, there were series of huts in line that were also locked up for the off-season, we saw a handful of monkeys playing on the roof of the huts. They were pretty big unlike the monkeys we used to see in the zoo. Earlier, we also had seen lots of Monkeys playing around all over the town. Monkeys might have a connection with holy places. From the swimming pool, we have had a panoramic view of the Ravalli Mountains. It is worth mentioning that Pushkar city is mostly surrounded by Aravalli Hills. This is the mountain where most of the precious stones of India are coming from. I assume, most of the forts in west Rajasthan were built using these stones. Moreover, the lucky stones that we wear on our fingers also come from Aravalli. The other parts of Pushkar are the desert, some part of the Thar. Unlike western Rajasthan, it was not flat and sand dunned. It was rather a bit hilly and made up of mixture of sands and soil.
  Finally we were all set for the ride. Two camels were ready for us. Their names were Sushil and Mr. Jone. We also got two little guides for us who would take us in the middle of the desert. I did not like the idea though of getting young kids involved in any professional works, but what could be done? That’s how it works all over the sub-continent. I insisted Mr. Dogba though, but he seemed not to get my point, he said there is no worry, the boys had been doing it days in days out.
  Getting on the camels was the most difficult part of the journey. It reminded me the movie Sonar Kella where Lalmohon babu was scared to death when tried getting on a camel. I was not worried about me though, I was thinking about my wife, Could she handle this? In my knowledge, she has never had any outdoor activities like this all her life. It looked like Mr. Dogba was aware of the fact that ladies should go first, otherwise seeing anybody getting on would cause them not to even think of riding a camel. Anyway, my wife managed to do it, I was standing besides just in case she might fall off and I would have to catch her. Now it was my turn and I also managed to do it, but speaking truly I was very scared. At first we were having difficulty when the camels started walking. Unlike horse or elephant riding, it was too bumpy, it was too high at the same time. My wife was about to cancel the trip, she was angered and called out Mr. Dogba and said either Mr. Dogba would give us some grown-up as a guide or we were going to quit. But Mr. Dogba comforted my wife by telling her that everything was going to be ok, she would get used to it after few blocks.
  Mr. Dogba was proven right after few minutes and we began to have fun. As our hotel was located on the other side of desert, we had to go through the city. Because camels are too high, we were able to see the people's backyards over the boundary walls. Sometimes we were about to hit the telephone wiring that goes right above our heads and we used to bend down to avoid accident. Other than that it was too good to be riding on camels. Camels are usually a slow ride when they walk, but it was quite ok with us. People on the streets were looking at us, we too were waving off to the kids. On the way, we saw few times, children were having poop at roadside and even they waved us from that position.
   After about half an hour, we reached at Brahma Mandir. This place always remains crowdy by pilgrims. At this part of the city, the road was lined up with shops that sells typical Rajasthani stuff such as gifts, clothing, shoes that are surely made up of Camel leather. We stopped over for few minutes in there. I got my 12-year-old guide to buy us Coca-Cola. We also bought them Coca Cola as they appeared to be thirsty.
   When we passed by Brahma Mandir, we could see the desert for the first time. We left the city road and entered into a narrow road that would lead us to the sunset point. Our intent was to get to that point well ahead of time before the sunset. Sunset in ocean, I have seen long ago in Coxes bazaar, sunset in the mountain, I have seen in the Rocky mountain, and this was the last one, Sunset in the desert. We didn’t know that our camels were too hungry until we got to this area. There were lots of trees by the roadside and they started eating leafs out of the trees. Our little guides were helpless refraining them from eating. We also tried, but without success. It seemed that we could not make it to get into the sunset point. But it did not bother us that much. We actually were enjoying everything around us. I did not know that my wife would like this safari this much. I took a solemn vow that going forward, I would take my wife to this kind of adventure every summer.
   On our way, we came across a gipsy colony, It was kind of living in the middle of nowhere, I was wondering how they managed drinking water from here. The colony was similar to ‘bede' colony in our country except for the fact that people wears typical Rajasthani dress and there was no snake business involved. Men tend to wear dresses in white, most likely to protect them from extreme heat, and women wears colorful though some of them cover up their face by white veil. And there were children, lots of them. They were playing with sands, the only thing they had it handy. I was wondering how they would take bath before go to beds, I was not seeing any water nearby.
     After much efforts put by our little guides, we were able to get to the Sunset spot few minutes before the sunset. We were more excited because we were getting off the camels for some time and could stretch out for a while. We relaxed for few minutes and then took some photographs. By this time, the Sun began setting behind the hills. It was beautiful to observe the scene.  We found the sand dunes around us very attractive in the light of the setting sun. Out of nothing appeared a man wearing typical Rajasthani dress. He seemed to be a singer. He played a very nice tune on his violin-like instrument. He sang couple of songs and we liked them all. In exchange I handed him 20 rupees upon my return. He also helped us getting on the camels. We were on our way back to the hotel. This time our guides made the camels run so we can get back to hotel in time.
   At the end of the day I felt very satisfied and fulfilling. After the meal, I took a cup of coffee to round off the day. It was about 9 pm and I was thinking to watch something on the TV. But my wife set her mind to go shopping. I replied to her, at this hour? She said, the shops are open until midnight. 

শনিবার, মে ১১, ২০১৩

এলেবেলে

অনেক দিন পরে আসলাম এই ব্লগ এ , কবে কখন create  করেছিলাম মনে নাই । কিছু লেখার আশায় খোলা হয়েছিল এই ব্লগ , লেখা হয়ে উঠেনি কখনো , আর গুছিয়ে লেখার যোগ্যতা নাই , সবচে  বড় কথা content  নাই । কি নিয়ে লিখব ? যখন ছোট ছিলাম , পেপারে দেখতাম বুদ্ধি জীবিরা কলাম লিখত , ভাবতাম আহা , এরা কি মহান , কত কিছু জানে , বড় হয়ে জানলাম , এরা কাজের কাজ তেমন কিছুই করে না , জ্ঞান  বিতরণ করা ছাড়া , খুজতে  লাগলাম তাদের যারা কাজ করে এবং লেখে , এমন মানুষও  পেলাম না, যারা কাজ করে তারা লেখে না , হয়ত প্রয়োজন  মনে করে না ।
এরপর বয়স যখন আরো বাড়ল তখন বুঝলাম , মডেল খুঁজে লাভ নাই , শিক্ষিত খুঁজে লাভ নাই, বড় আত্মা  লুকিয়ে থাকতে পারে যেকোনো মানুষের মাঝে , কিছুদিন আগে যে এক রিক্সাওয়ালা অনেক টাকা থানাতে ফেরত দিয়ে আসল , এ একজন সত  বেক্তি এবং অবশ্যই মহান আত্মার দাবিদার । মাঝে মাঝে ভাবি , সেই সব লোক কত ভাগ্যবান যারা উত্পাদনের সাথে সম্পৃক্ত , যে কৃষক জমিতে ধান আবাদ করছে অথবা কলের শ্রমিক , মোটকথা যাদের শ্রম সরাসরি পন্যে রুপান্তরিত হয় , ছোটবেলায় এইসব লোককে ছোটলোক  ভাবা শেখানো হত , মনে খটকা লাগেনি তা নয়, কিন্তু মেনে নিতে হয়েছে ।
মনের বিকাশ ঘটবে কিভাবে ? বাবা মা ছেলে মেয়ে মানুষ করার নামে  শুধু চাপিয়ে দেয়  ভুল । মন্দকে  ভালো এবং ভালো কে মন্দ বলতে শেকায় , এরপর যোগ হয় সমাজ এবং পারিপার্শিক , সবার চাপে নিজের নিষ্পাপ সত্তা এবং বিচার বুধি কলুষিত হতে শুরু করে , যখন সব চাপ ছাপিয়ে একজন মানুষ বের হয় এবং নিজের সংসার শুরু করে  , তখন সে সপূর্ণ পথভ্রষ্ট , তার চোখে গর্বের বেক্তি যে বিদেশে থাকে , আদর্শ চাকরি জিবি যার উপরি আছে , শিক্ষিত সে যে আসলে ভন্ড ,মাননীয় যে যার টাকা আছে ।
  আগে ভাবতাম মেধার সাথে ভালো মানুষের সম্পর্ক আছে। আসলে না , যখন বিশ্ব বিদ্যালয়  পাশ করি , অনেক বন্ধু ঘোষণা দিল BCS  পাশ করেই ঘুষের চাকরি নিবে , তখন ভাবতাম ইআর্কি করে বলছে , পরে মিলিয়ে দেখি আসলেই তাই , যারা GRE  TOEFL  দিয়ে বিদেশে আসল (আমিও তাদের দলে ) ভাবলাম এরাই ভালো করবে , কিন্ত অঙ্ক মেলে না । সবাই আজ বড় গৃহপালিত হয়ে আছে , নিজের সমস্যা  ছাড়া কথায় নাই । আর গোল্লায় যাক সব । এই যে আজ মানবতা হুমকির সামনে , গণ হত্যা , বিচার হহির্বিত হত্যা , জুলুম চলছে দেশে , কোনো বিদেশী বন্ধুর মুখে রা নাই , অন্তত ফেসবুক এ তো কিছু দেখি না
যাক কি লিকতে বসলাম আর কি লিখলাম ।। 

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৯, ২০১২

Pain talking with officers

Somehow the idea of getting into and settling in the US imprinted into my mind when I was a graduate student. The thought might have come even before that. The people I used to live with had limited knowledge about the purpose of life; they tend to wrongly influence other people about what to do with life. I possibly got influence from these people that nothing is more worthy than to go to the US. Later in my University life what I have seen from the fellow students was sticking with GRE big book and TOEFL materials. You got to get decent scores, that’s the golden key for US entry. I followed the footsteps of my fellow senior students and was quite stuck with GRE and TOEFL for the next few years. I ended up with decent scores and one day found myself lined up in front of US embassy for F1 visa, what a childish job I have done; now I remember and laugh. Anyway there were hundreds if not thousands were lined up with me. We waited patiently all night long in the hope that we can get into the embassy and will be interviewed. Lucky me that I had some friends with me waiting on the same queue. Otherwise the only thing I could have achieved on that night was some mosquito bites.


My visa application was declined. I was told by the visa officer that I did not have enough family ties in Bangladesh and would not be back from the US upon finishing my study. Well, he was right and wrong at the same time. He was upright wrong on the point of my family tie, having four brothers and one sister, having living parents, having all the good friends, what on earth led someone to decide I have no family ties, it appeared to be he was justifying my emotional bonding in less than five minutes.

Eleven years have passed. I was traveling with my wife to California. I was asked by another officer in Denver if I was carrying cooked spicy food, he added in his 20 years career, he never saw any Indian not carrying spicy materials with them. Well he was downright wrong again; firstly I am not an Indian, secondly I find the idea quite bizarre that all Indian carry spicy food always. I always wonder why all of these people have no ability to talk right. Why people have to talk something that they don’t have faintest idea about.

মঙ্গলবার, নভেম্বর ০১, ২০১১

To be complacent

Once Bibekananda was asked by a king why he had chosen the life of a Monk walking along the barren streets of India. In reply, he asked the king why he goes haunting so often. The king replied he liked to do that, the same is true for Bibekananda, he likes walking the streets.
It boils down to mental happiness. I will do what I like to do. But there is a little problem, not many people can do that, because they have other things to do. For living, they need to eat and sleep and they need money to ensure these needs, in other words, they have to, in some extent do some sorts of works that they don’t like but it results in earning money. These money helps build a family where other members are being prepared to be a money making tool. This is a kind of chain, and in doing so, the most important part, to be happy mentally is being ignored.
 It is sufficiently important for a person to do something what he means to do from the bottom of his heart. This month, I visited Bangladesh and found some of my brothers and sisters are doing something that they don’t do for living but to be self complacent. One of my cousins in Kurigram has just completed compiling a book that would encompass a special kind of song called dohar gaan which was seen and practiced only in the northern part of Bangladesh. My own elder brother has once again started writing poems, some of which have recently been published in a daily newspaper. My sister is planning a research of compiling a dictionary of local language in the north part of Bangladesh. My cousin who is a police officer, has recently written some beautiful songs for an audio album, the album should be out by now. All these are examples of doing something that our inner mind likes to do. The people who can make it are respectable to me.

শনিবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০০৯

Some old write-ups

Here are some links that can take you to some of my old articles
A writing on ICIT 
A writing about Biometrics

বুধবার, ডিসেম্বর ০৯, ২০০৯

About this blog

I decided not to put any technical writings here.

শনিবার, মে ০২, ২০০৯

From regina